মূল অংশে যান
← সব লেখা

হিসাব

ডাবল-এন্ট্রি হিসাব কেন কল্যাণ সমিতির জন্যও জরুরি — সহজ ভাষায়

ডাবল-এন্ট্রি শুনলে মনে হয় বড় কোম্পানির ব্যাপার। আসলে ছোট সমিতির হিসাবের গরমিল আর সন্দেহ দূর করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় এটাই।

৪ অক্টোবর ২০২৬ ৩ মিনিটে পড়ুন

· সোসাইটি কিপার টিম
ডাবল-এন্ট্রি হিসাব কেন কল্যাণ সমিতির জন্যও জরুরি — সহজ ভাষায়

অনেক সমিতিতে হিসাব রাখা হয় একটি খাতায় — বাম পাশে "জমা", ডান পাশে "খরচ"। ছোট পরিসরে এটা চলে, কিন্তু টাকার পরিমাণ আর লেনদেন বাড়তে থাকলে তিনটি সমস্যা দেখা দেয়: ভুল ধরা কঠিন, কোথায় কত দেনা-পাওনা আছে বোঝা যায় না, আর বছর শেষে হিসাব মেলাতে সপ্তাহ লেগে যায়।

ডাবল-এন্ট্রি আসলে কী?

নিয়মটা খুব সহজ: প্রতিটি লেনদেন দুটি খাতে লেখা হয় — একটিতে ডেবিট, আরেকটিতে ক্রেডিট, আর দুটোর অঙ্ক সমান।

উদাহরণ দেখুন। নিরাপত্তা প্রহরীর বেতন ৳১২,০০০ নগদে দেওয়া হলো:

খাত ডেবিট ক্রেডিট
নিরাপত্তা প্রহরীর বেতন (ব্যয়) ৳১২,০০০
হাতে নগদ (সম্পদ) ৳১২,০০০

একটা খাতে খরচ বাড়ল, আরেকটা খাতে নগদ কমল — দুই দিক সমান। এতে প্রতিটি টাকার উৎস আর গন্তব্য দুটোই লেখা থাকে।

সমিতির কী লাভ?

ভুল নিজে থেকেই ধরা পড়ে

সব খাতের ডেবিট আর ক্রেডিট যোগ করলে সমান হতেই হবে — এটাকে বলে রেওয়ামিল (ট্রায়াল ব্যালান্স)। না মিললে বুঝবেন কোথাও ভুল আছে, বছর শেষে নয়, সেদিনই।

দেনা-পাওনা পরিষ্কার

সরবরাহকারীর কাছে কত বাকি, সদস্যদের কাছে কত পাওনা, কারা অগ্রিম দিয়ে রেখেছেন — সব আলাদা খাতে থাকে। শুধু নগদের হিসাবে এগুলো হারিয়ে যায়।

এজিএমের রিপোর্ট সবসময় তৈরি

ডাবল-এন্ট্রি থেকে সরাসরি পাওয়া যায় আয়-ব্যয় হিসাব, প্রাপ্তি ও প্রদান হিসাব আর উদ্বৃত্তপত্র — যা বার্ষিক সাধারণ সভায় সদস্যরা দেখতে চান, আর অডিটর চান।

স্বচ্ছতা ও আস্থা

যখন প্রতিটি লেনদেনের ভাউচার, অনুমোদনকারী আর বিপরীত খাত লেখা থাকে, তখন "টাকা কোথায় গেল" প্রশ্নের উত্তর এক মিনিটে দেওয়া যায়।

আপনার সংগঠন যদি সঞ্চয়-ঋণভিত্তিক সমবায় হয়, তাহলে সমিতি কিপার দেখে নিন — সদস্য, সঞ্চয়, লোন ও কিস্তির পুরো হিসাব এক জায়গায়। আর অল্প সদস্যের সমিতির জন্য আছে ছোট সমিতির হিসাব রাখার অ্যাপ — সমিতি কিপার লাইট।

কঠিন শোনালেও কাজটা সহজ

সত্যি বলতে, কমিটির সদস্যদের ডেবিট-ক্রেডিট মুখস্থ করার দরকার নেই। সোসাইটি কিপারে সদস্যের পেমেন্ট নিলে, বিল তৈরি হলে বা মওকুফ অনুমোদন হলে হিসাবের এন্ট্রি নিজে থেকেই হয়ে যায়। কোষাধ্যক্ষ শুধু খরচের ভাউচার লেখেন — "কোন খাতে, কত টাকা, নগদ না ব্যাংক" — বাকিটা সফটওয়্যার সামলায়।

মনে রাখুন: ভালো হিসাব শুধু টাকার রেকর্ড নয় — এটা কমিটির সততার প্রমাণ। আর পরের কমিটির হাতে পরিষ্কার হিসাব তুলে দেওয়াই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

#ডাবল এন্ট্রি #রেওয়ামিল #উদ্বৃত্তপত্র